The Universal House of Justice
Ridván 2001 / 158BE

To the Bahá’ís of the World

Dearly loved Friends,

আমাদের হৃদয়সমূহে বিপুল আনন্দ এবং উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে আমরা একটি পরিবর্তনের সময়ে এই রিজওয়ান মৌসুমে এসেছি যখন আমাদের সকলের মধ্যে একটি নতুন মানসিক অবস্থা সুস্পষ্ট। বিশ্বের সর্বত্র আমাদের সমাজের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে মানবসম্পদসমূহের উন্নয়ন যা দ্বারা প্রসারণকে পরিপোষণ এবং দৃঢ়করণকে নিশ্চয়তা প্রদান করা যেতে পারে সেই সম্বন্ধে প্রক্রিয়ার উপকারিতা, পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা এবং পদ্ধতিগত কাজের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে একটি উচ্চ মাত্রার সচেতনতা রয়েছে। অগ্রগতির জন্য এই পূর্বশর্তসমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার গুরুত্বকে তুচ্ছ করে দেখার উপায় নেই এবং সেগুলিকে সুশৃঙ্খল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে স্থায়িত্ব দানের গুরুত্বকে অবহেলা করা যায় না। অতএব, সচেতনতার এমন এক স্তরে উপনীত হওয়া আমাদের সমাজের জন্য একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। আমরা পুতঃপবিত্র সুষমার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ যে, আমরা এই উৎসমুখর দিনগুলিতে যে গ্রহ পরিবেষ্টনকারী কর্মযজ্ঞের সূচনা করতে যাচ্ছি তার শুরুতেই সে বিষয় উপলব্ধি করতে এবং তাকে স্বাগত জানাতে সক্ষম হচ্ছি।


 এই সচেতনতার মাধ্যমে যে ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হয় তা পবিত্র ভূমিতে গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণ এবং তাদের সাহায্যকারী বোর্ডের সম্মেলনকে তার বিশেষ চরিত্র দান করে। এই সম্মেলনে এমন এক আলো প্রদানকারী অভিজ্ঞতাকে জন্ম দেয় যা ধর্মে একটি নতুন ধাপে (ইপকে) প্রবেশের সংকেত বহন করে Ñ অর্থাৎ ধর্মের সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম স্তর। জীবনী শক্তির যে সতেজতা এই ঐতিহাসিক সমাবেশে প্রদর্শিত হয়েছিলো তাকে সমাজব্যাপী কার্যক্রমের উর্ধ্বগামী মানের প্রকাশ রূপে ধরা হয়েছিলো। গত বছর দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এই উক্তির যথার্থতা প্রমাণিত করে। এইভাবে পাঁচসালা পরিকল্পনার জন্য পথ প্রশস্ত হয়ে ছিলোÑযা (পাঁচসালা পরিকল্পনা) পঞ্চম ধাপের (ইপকের) গৃহীত প্রথম উদ্যোগ।


 বিগত চারসালা পরিকল্পনার মূল প্রচেষ্টাসমূহকে অধিক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বারোমাসের পরিকল্পনাÑ(যা ৩০০ এর অধিক প্রশিক্ষণ ইনস্্টিটিউটকে জন্ম দিয়েছে) তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। উক্ত পরিকল্পনা, শিশুদের আধ্যাত্মিক লালন পালন এবং কিশোরদের বাহা’ই সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের প্রতি অধিকতর মনোনিবেশ দেওয়ার আহ্বানের প্রতি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং ব্যক্তিদের লক্ষ্যণীয় সাড়া প্রদানের কারণে আরো গুরুত্ব অর্জন করে। শিশু ক্লাসের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইন্্সটিটিউট প্রক্রিয়ার অন্তর্ভূক্তি এখন অনেক দেশে বাহা’ই কার্যকলাপের একটি নিয়মিত অংশে পরিণত হয়েছে। তার কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও “বারোমাস” পরিকল্পনায় গুরুত্ব এমনই ছিল যা তার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই পরিরকল্পনা বাহা’ই ইতিহাসের একটি অত্যন্ত ঘটনাবহুল ধাপ এবং অন্য একটি নতুন ও প্রচুর সম্ভাবনাময় ধাপের মধ্যে একটি গতিশীল সংযোগের ন্যায় ছিলো, যেই নতুন ধাপের জন্য এই পরিকল্পনার অর্জনসমূহ সমাজকে এমন উত্তম রূপে প্রস্তুত করেছে। এই পরিকল্পনা আমাদের ইতিহাসে তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্যও স্মরণীয় হয়ে গেছে, বিংশ শতাব্দীর শেষে আমাদের ধর্মের কর্মকা-ে, এমন এক শতাব্দী যা প্রত্যেক বাহা’ই যে মানবজাতির সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক বিবর্তনের এমন এক সংকটময় সময়, এই গ্রহের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রচ- শক্তিসমূহ এবং স্বয়ং ধর্মে প্রক্রিয়াসমূহকে বুঝাতে চায়, তার উচিত হবে এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। এমন এক মহতী উদ্যোগের জন্য সহায়তাস্বরূপ আমাদের তত্ত্বাবধানে এবং আমাদের অনুরোধে “আলোর শতাব্দী” নামক একটি পর্যালোচনা প্রস্তুত করা হয়েছিলো।


 এই এক বছরব্যাপী প্রচেষ্টায় একাধিকবার ধর্মের বহির্বিশ্ব সম্পর্কিত কর্মকা- বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে। উদাহরণস্বরূপ, সহ¯্রাব্দ উদ্্যাপন সম্পর্কিত জাতিসংঘের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক আয়োজিত মে, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর-এ অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলিতে বাহা’ই প্রতিনিধিদের লক্ষ্যণীয় উপস্থিতি বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র শান্তির প্রক্রিয়ার সাথে আন্তর্জাতিক বাহা’ই সমাজ (বি.আই.সি) এর এত ঘনিষ্ঠ এবং দৃষ্টি আকর্ষক সম্পর্কের ফলাফলকে যথার্থভাবে বুঝতে এখনও সময় লাগবে। অন্যান্য ঘটনার মধ্যে ছিলো বাহা’ই আন্তর্জাতিক সমাজের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি নতুন সংস্থা “ইন্্সটিটিউট ফর স্টাডিজ ইন গ্লোবাল প্রসপারিটি” দ্বারা ভারতে আয়োজিত একটি মহাদেশীয় আলোচনা-মতবিনিময় সভা। সম্মেলনটিতে “বিজ্ঞান, ধর্ম এবং উন্নয়ন” কে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেব বেছে নেয়া হয় এবং এতে ভারতের প্রথম সারির বেসরকারী সংস্থাসমূহ ছাড়াও টঘঊঝঈঙ, টঘওঈঊঋ, ডঐঙ এবং বিশ্ব ব্যাংক এর মত বিখ্যাত সংস্থাও অংশগ্রহণ করে। অক্টোবরে বাহা’ই বিশ্ব সংবাদ সার্ভিসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিলো সমগ্র বিশ্বের ঘটনাসমূহ সম্পর্কে বাহা’ই এবং অবাহা’ইদেরকে অবগত করানো।


 গত বছর বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে চালিত ব্যাপক কর্মতৎপরতা সম্পর্কে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বন্ধুদেরকে পূর্বের রিপোর্টগুলির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এইসব অর্জনের মধ্যে ছিলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্মেল পর্বতে তাদের স্থায়ী আসন গ্রহণ; গত জানুয়ারিতে পবিত্র ভূমিতে মহাদেশীয় উপদেষ্টা এবং তাদের সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যদের সম্মেলন, কার্মেল পর্বত প্রকল্পের সমাপ্তি, যেখানে এখন মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য উৎসবের জন্য শেষ প্রস্তুতি চলছে। গত অক্টোবরে হাইফায় অবস্থিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে, যা এখন পুরোপুরি কাজ করছে, প্রথমবারের মত তীর্থযাত্রী এবং অন্যান্য অতিথিদের স্বাগত জানায়। বাহ্জিতে পবিত্র স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ তার বাগানের উন্নয়নের মাধ্যমে অবিরতভাবে চলছে, এই প্রচেষ্টা গত বছরে হাতে নেয়া একটি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরো এগিয়ে গেছে, প্রকল্পটি ছিল বাহা’ই সম্পত্তির উত্তর সীমানায় কলিন্স গেইটের বাইরে একটি প্রদর্শক কেন্দ্রের নির্মাণ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা। মূল ভবন তৈরী হয়ে গেছে এবং চারিদিকে বাগান এবং অন্যান্য শেষ কাজগুলো এখন চলছে। এই নতুন সুযোগ সুবিধাগুলি বিশ্ব কেন্দ্রে অধিক সংখ্যায় তীর্থযাত্রী, স্বল্পকালীন বাহা’ই দর্শনার্থী এবং বিশেষ অতিথিদের গ্রহণ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে।


 গত বছরের ঘটনাসমূহের এই সংক্ষিপ্ত তালিকা আমরা আপনাদেরকে এই আনন্দ সংবাদদানের মাধ্যমে শেষ করছি যে, প্রায় তিন দশকের বিরতির পর গত রিজওয়ানে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত জাতীয় মহাসম্মেলনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ পুনঃনির্বাচিত হয়েছে। ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে বাহা’ই কর্মকা-ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এই সময় ইন্দোনেশিয়ার বাহা’ইদের কার্যক্রমকে অত্যন্ত সীমিত করে রেখে ছিলো, কিন্তু তারা তাদের এই দীর্ঘ কষ্টভোগে দৃঢ় এবং বিচক্ষণ ছিলেন। যতদিন না পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। আমরা কি আশা করতে পারি না যে, ইরান, মিসর এবং অন্যান্য দেশে আমাদের অবরোধ্য সমধর্মীদের সম্পর্কেও আমরা অদূর ভবিষ্যতে এই জাতীয় সুসংবাদ শুনতে পারবো?


 প্রিয় বন্ধুগণ, আজ থেকে দুই দশক পরে বাহা’ই সাংগঠনিক যুগের সূচনার শতবর্ষ পালন করবে। আমরা এই যুগের সূচনাকে আজ সাফল্যের এমন এক চূড়া থেকে দেখছি যা সূচনা লগ্নে কল্পনাতীত ছিল। সম্মুখ দিগন্ত সমাজকে বৃহত্তর বিজয়ের দিকে জরুরী আহ্বান জানাচ্ছে, সেই শত বার্ষিকীর পূর্ব সংক্ষিপ্ত এই সময়। এই শীর্ষ আরোহন সম্ভব এবং অবশ্যই আমাদেরকে তা করতে হবে। পাঁচসালা পরিকল্পনা, যার প্রতি আমরা সারা বিশ্বের বন্ধুদের জরুরী এবং স্থায়ী মনোযোগের আহ্বান জানাচ্ছি, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য। এই পরিকল্পনা এমন এক ধারাবাহিক সুসংগঠিত প্রচার অভিযানের প্রথম হবে যা আগামী বিশ বছরে পরিচালিত হবে। এই পরিকল্পনা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রতির লক্ষ্য অর্জনের পরবর্তী ধাপে প্রবেশকে চিহ্নিত করে। এই পরিকল্পনা উক্ত সঞ্জীবনী প্রক্রিয়ার গতি সঞ্চার দাবি করে এবং অধিকন্তু পরিকল্পনার বাস্তবায়নের তিন অংশগ্রহণকারী, তথা ব্যক্তি, সমাজ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়মাবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্যে ধারাবাহিকতার প্রতি জোর দেয়।


 পরিকল্পনার প্রয়োজনগুলির বিস্তারিত বর্ণনার দরকার নেই, কারণ সেগুলি পবিত্র ভূমিতে সমবেত উপদেষ্টাগণের প্রতি আমাদের বার্তায় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সকল জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। তাদের সম্মেলনের পর পরই উপদেষ্টাগণ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিজ নিজ এলাকার জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের সাথে আলোচনা আরম্ভ করেন। তাই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু সকল অঞ্চলের বন্ধুদের জানা আছে এবং তার মূল লক্ষ্য অর্জনের জন্য আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এতদিনে সাধারণভাবে এই সচেতনতা জন্ম নিয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের ভিতরে আরো অধিক অঞ্চলে ধর্মের প্রবেশকে আরো গভীর করার জন্য প্রচেষ্ট চালাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে পরিবেশ অনুকূল থাকবে সেখানে সব স্থানীয় সমাজগুলি ভৌগলিাভাবে কাছাকাছি অবস্থান করে তাদেরকে বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক তৎপরতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। অন্যান্য পথের মধ্যে রয়েছে নিয়মাবদ্ধভাবে নতুন এলাকাসমূহ উন্মুক্ত করা, যার জন্য স্বদেশীয় পথিকৃতদের উত্থানের প্রয়োজন হবে যারা সেই একই উৎসর্গের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে যেমন প্রথম যুগে পথিকৃতগণ বিভিন্ন মহাদেশে এবং সমুদ্র পারে নতুন এলাকা উন্মুক্তকরতে ছড়িয়ে পড়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যে প্রক্রিয়া ঐশী শক্তি দ্বারা চালিত এই উদ্যোগকে প্রাণচাঞ্চল্য দান করেছে তা ধাপে ধাপে প্রাসঙ্গিক উপাদানের অন্তর্ভূক্তি এবং সুশৃঙ্খলভাবে মূল পরিকল্পনায় একাত্মকরণের মাধ্যমে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে।


 পঞ্চম ধাপের একটি বৈশিষ্ট্য হবে, যে সব জাতীয় সমাজে পরিবেশ অনুকুলে সেখানে জাতীয় উপসানালয় নির্মাণের মাধ্যমে সমাজের ভক্তিমূলক (আধ্যাত্মিক) জীবনকে সমৃদ্ধ করা। এই সকল প্রকল্পের সার্বজনীন বিচারালয় সেই দেশের দলে দলে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়ার অগ্রগতির স্তর বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করবেন। (জাতীয় উপাসনালয় নির্মাণের) এই প্রক্রিয়া আব্দুল-বাহার ঐশী পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায় চলতে থাকবে। পাশ্চাত্যের মাতৃ উপাসানালয় নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর, অভিভাবক মহাদেশীয় উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তার মধ্যে প্রথম ছিলো কামপালা, সিডনি এবং ফ্রাঙ্কফুট-এর মাশ্্রিকুল-আয্্কারসমূহ, এইগুলি দশসালা পরিকল্পনার আহ্বানে তৈরী করা হয়। সার্বজনীন বিচারালয় পানামা-সিটি, এপিয়া এবং নতুন দিল্লির উপাসনালয় নির্মাণের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু এই মহাদেশীয় পর্যায় এখনো শেষ হয় নাই। আর একটি ইমারতের নির্মাণ অবশিষ্ট রয়েছে। আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা এবং আনন্দের সাথে এই শুভক্ষণে এই শেষ প্রকল্পের কাজে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। পাঁচসালা পরিকল্পনার মধ্যে চিলির সান্তিয়াগোতে দক্ষিণ আমেরিকার মাতৃ উপাসনালয় নির্মাণের কাজ আরম্ভ হবে এবং এইভাবে শৌগী এফেন্দীর একটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত ইচ্ছা পূর্ণ হবে।


 একই সময়, বিশ্ব কেন্দ্রে আর্কে নতুন ইমারতগুলিতে যে সব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করবে তাদের কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করার জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখনই শুভক্ষণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়াতে, এখন পবিত্র লিখনাবলী অধ্যয়ন কেন্দ্রের কাজকে সুসংগঠিত করার বিশেষ মনোযোগ দেয়া হবে। এই মনোযোগের বিশেষ লক্ষ্য হবে পবিত্র লিখনাবলীর ইংরেজী অনুবাদকে আরো সমৃদ্ধ করা। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো সার্বজনীন বিচারালয়ের সাথে পবিত্র লিখনাবলী সম্পর্কে পরামর্শ করা এবং ধর্মের প্রামাণিক লিখনাবলীর অনুবাদ এবং টিকা প্রস্তুত করা। অধিকন্তু, পবিত্র ভূমিতে, বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে আরো অধিক সংখ্যায় তীর্থযাত্রী এবং প্রদর্শকদের আগমনকে সম্ভবপর করার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা চালানো হবে।


 পাঁচ বছর পূর্বে আমাদের রিজওয়ান বার্তায় আমরা কার্মেল পর্বত প্রকল্প সমাপ্তি এবং মহান বা’বের সমাধির বাগানের ধাপগুলি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সময় বিশ্ব কেন্দ্রে একটি বৃহত্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা বলেছিলাম। সেই মুহূর্ত এখন আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছে এবং আমরা প্রায় প্রত্যেকটি দেশ থেকে আগত বন্ধুদেরকে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশায় উল্লসিত, এই অনুষ্ঠানমালা ২১-২৫শে মে, পাঁচদিন ব্যাপী হবে। আমরা আনন্দের সাথে আরো জানাচ্ছি যে, বাহা’ই বিশ্বকে এই অনুষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ইন্টারনেট) এবং উপগ্রহের মাধ্যমে তা সম্প্রচার করা হবে। এই বিষয়ে তথ্য জানানো হচ্ছে। একদিকে যখন বিশ্বকেন্দ্র এই প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে, অন্যদিকে হাইফাতে সাধারণ মানুষের উত্তেজনাও ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাইফার পৌর কর্তৃপক্ষ এই উপলক্ষ্যে “বাহা’ই পবিত্র সমাধি এবং হাইফা, ইসরাইলের কার্মেল পর্বতের উদ্যান-একটি সচিত্র যাত্রা” নামক একটি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাছাড়া ইসরাইলের ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ বাগানের ধাপ সম্পর্কে একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করার তাদের সিদ্ধান্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানের গুরুত্ব মূলত এই যে, ধর্ম বিংশ শতাব্দীতে যে আশ্চর্যজনক পথ পেরিয়ে এসেছে তা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য একটু থেমে চিন্তা করার সুযোগ করে দেয়া। এই অনুষ্ঠান ঈশ্বরের পবিত্র পর্বতে যে বিস্ময়কর ইমারতসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভবিষ্যতে কি ফল প্রদান করবে এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার সময়ও হবে এবং এই ইমারতগুলি নির্মাণে আমাদের ধর্মের আধ্যাত্মিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিকে পৃথিবীর দৃষ্টির নাগালে নিয়ে এসেছে।


 আমাদের সমাজ যখন এই সব শিহরণ জাগানো বিষয়ে আনন্দিত, তখন প্রত্যেক সদস্যের মনে রাখা উচিত যে অর্জিত বিজয়সমূহ নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকার সময় আমাদের নেই। মানবজাতির বর্তমান অবস্থা এমনই শোচনীয় যে, তাদেরকে জীবন প্রদানকারী খাদ্য প্রদানে এক মুহূর্ত বিলম্ব করা উচিত নয়। তাই সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় যেন কোন প্রকার বিলম্ব না ঘটে যে প্রক্রিয়া সত্যের জন্য ক্ষুধার্ত প্রত্যেকটি আত্মাকে দেবদূতগণের প্রভু (বাহা’উল্লাহ্্) ভোজের দিকে পরিচালিত করার সব ধরণের সাফল্যের সম্ভাবনা বহন করে।


 যিনি তাঁর ঐশী নিয়মতন্ত্রের সর্বাত্মক রক্ষা করেন তিনি যেন আপনাদের সম্মুখে যে জরুরী দায়িত্বসমূহ রয়েছে তা বাস্তবায়নে আপনাদের প্রত্যেক পদক্ষেপের দিক নিদের্শনা, পরিচালনা ও তা অনুমোদন করুন।

The Universal House of Justice